‘করোনা ভাইরাস’-আতংক নয়, মানসিক শক্তিই- দূর করবে ভয়’- নাসিমা বেগম ঝুনু     

এ মুহূর্তে আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস।  যা নিয়ে শঙ্কায় আছে বিশ্ববাসী,কেননা করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি চীনে হলেও সম্প্রতি এটি ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত বছর গুলোতে সংক্রমনজনিত মশাবাহিতরোগ বা ডেঙ্গুজ্বর আমাদের দেশে মহামারী রূপ ধারন করেছিল। ভুলে গেলে হবেনা ডেঙ্গু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। শীততো শেষ হয়ে যাচেছ গরমের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদূর্ভাব দেখা দিতে পারে। তাই এখন থেকে বাড়তি সতর্কতা জরুরী। শুধু ডেঙ্গু নয় ভ্ইারাস জনিত সকল অসুখ সম্পর্কে আমাদের ধারনা থাকতে হবে। আমরা নিপাহ ভাইরাসের কথা শুনি, ইবোলা ভাইরাসের কথা শুনি আবার শোয়াইন ফ্লু এর কথা শুনি। ভাইরাসজনিত রোগ বা ভাইরাস রোগ মানুষের প্রায় এক ডজন গুরুত্বপূর্ণ রোগের জন্য দায়ী। সচরাচর সংক্রামিত এসব রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডেঙ্গুজ্বর, ইয়েলো ফিভার, পোলিওমাইলিটিস, জন্ডিস, রেবিস, ইনফ্লেুায়েঞ্জা, মাম্পস, হাম, বসন্ত, হার্পিস, রোটাভাইরাস ডায়ারিয়া, ফিভার এবং কয়েক ধরনের এনসেফালাইটিস। কিন্ত এসব সম্পর্কে শোনা নয় জানতে হবে।

পৃথিবীর ভয়ংকর ৭ ভাইরাস

Dip Add

পৃথিবীতে জানা-অজানা বহু ভাইরাস আছে। এর মধ্যে ছয়টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সে ছয়টি ভাইরাসের সঙ্গে ইদানীং যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস।

১।ইবোলাভাইরাস
এ পর্যন্ত ঘাতক ভাইরাসের শীর্ষে আছে ইবোলা ভাইরাস। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ১৯৭৬ সালে। একই সঙ্গে নাইজার, সুদান, ইয়াম্বুকু ও রিপাবলিকান কঙ্গোতে। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালে ইবোলা মহামারিতে আফ্রিকার পশ্চিমাংশের দেশগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০১৯ সালে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসে ২ হাজার ৯০৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং এদের মধ্যে ১ হাজার ৯৫৩ জন প্রাণ হারায়। আজ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি। ইবোলা ভাইরাস সংক্রামিত মানুষের রক্ত, লালা বা যেকোনো নিঃসৃত রস থেকে কিংবা শরীরের ক্ষতস্থানের মাধ্যমে অপরের শরীরে সংক্রামিত হয়ে থাকে।

২।রেবিজভাইরাস
রেবিজ ভাইরাস নিউরোট্রপিক অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয়, তার নাম জলাতঙ্ক। প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে জলাতঙ্কের আক্রমণে প্রাণ হারায় ৫৯ হাজার মানুষ। সংক্রামিত প্রাণীর লালায় রেবিজ বা জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বিচরণ করে। সেসব প্রাণী মানুষকে কামড়ালে মানুষ সংক্রামিত হয়।

৩। এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস

এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
এই ভাইরাসটি মিউট্যান্ট। ডাচ ভাইরোলজিস্ট রন ফুচিয়ে গবেষণাগারে বার্ড ফ্লু ভাইরাসকে রূপান্তরিত করেন। এ ভাইরাসটি মারাত্মক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ভীষণ বিপজ্জনক বিধায় ২০১১ সালে আমেরিকান বায়োসফটি এজেন্সি (এনএসএবিবি) এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। গবেষকেরা আশ্বস্ত করেছেন, এই দানব ভাইরাসটির স্থান হয়েছে গবেষণাগারের অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রকোষ্ঠে। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ খোলা নেই। এমনিতেই সাধারণ বার্ড ফ্লু ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা ৬০

শতাংশের ওপরে। এরপরও উচ্চ মারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাইরাসটি নিজে থেকেই ভোল পাল্টাতে অর্থাৎ রূপান্তরিত হতে পারে। সে জন্য এটি নিয়ে বিশেজ্ঞরা বিশেষ বেকায়দায় আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা দায়ী। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এই মৌসুমে তিন কোটির বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ ভাইরাসে ফ্রান্সে ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজার ১০০ জন।

৪। মারবুর্গ  ভাইরাস

মারবুর্গ
জার্মানির একটি শহরের নামে এই ফিলোভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও এটি ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে কম মারাত্মক। তবে এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে। উচ্চ মারণক্ষমতা অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ এ ভাইরাসে মারা যায়। মারবুর্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পঞ্চম বা সপ্তম দিনে সংক্রামিত ব্যক্তির প্রচণ্ড জ্বর এবং সেই সঙ্গে রক্তবমি, মলের সঙ্গে রক্ত, নাক, দাঁতের মাড়ি এবং যোনিপথে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ অসুস্থতার পরে পুরুষদের মধ্যে অর্কিটিস নামক অণ্ডকোষের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। আশার কথা, এ ভাইরাস খুব সহজে সংক্রামিত হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশার কারণে তার মল, প্রস্রাব, লালা বা বমির মাধ্যমে মারবুর্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।

৫। ডেঙ্গু  ভাইরাস

ডেঙ্গু
ডেঙ্গুর আরেকটি নাম আছে, তা হলো ‘ট্রপিক্যাল ফ্লু’। এডিস মশার কামড় দ্বারা সংক্রামিত হয় ডেঙ্গু। অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে কম বিপজ্জনক। ডেঙ্গু ভাইরাস সাম্প্রতিককালে ইউরোপেও হানা দিয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ১৪১টি দেশে আনুমানিক ৩৯ কোটি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তি মারাত্মক রক্তক্ষরণকারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রাণ হারায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

৬। এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস

এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস
এই ভাইরাসটি পোষক কোষে আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। সক্রিয় হয়ে উঠলে পোষক দেহের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকল করে দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, এইডস মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।
১০ মার্চ ২০২০, ব্রিটিশ মেডিকেল বৈজ্ঞানিক জার্নাল The Lancet খবর দিয়েছে, এইডসে আক্রান্ত একজন ব্রিটিশ ব্যক্তির অস্থি–মজ্জা–কোষ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাকে পুরোপুরি সরিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে এইডসের কবল থেকে মুক্ত করা গেছে। এইডসের মোকাবিলায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

৭। নভেল করোনা (Covid-19)

নভেল করোনা (Covid-19)
ইদানীং যে ভাইরাসটি সারা বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে, তা হলো করোনাভাইরাসের একটি প্রকরণ নভেল করোনা (Covid-19)।

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ বা কোভিড-১৯ মানুষের একটি সংক্রামক ব্যাধি। এই ব্যাধিটি সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের প্রারম্ভে ব্যাধিটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক মহামারীর রূপ ধারণ করে। ব্যাধিটির সাধারণ উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মাংসপেশীর ব্যথা, বারবার থুতু সৃষ্টি এবং গলায় ব্যথা দেখা যেতে পারে ।   এই রোগ সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সৃষ্ট বায়ুকণা থেকে ছড়ায়।  এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির জীবাণু হাঁচি-কাশির কারণে বা জীবাণুযুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শ করার কারণে পরিবেশের বিভিন্ন বস্তুর পৃষ্ঠতলে লেগে থাকলে এবং সেই ভাইরাসযুক্ত পৃষ্ঠতল অন্য কেউ হাত দিয়ে স্পর্শ করে নাকে-মুখে-চোখে হাত দিলে করোনাভাইরাস নাক-মুখ-চোখের শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০১৯-২০২০ করোনাভাইরাস এর আক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারী  এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা (PHEIC) ঘোষণা করেছে।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ—–

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯-এর (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়ঃ

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ——-

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা:

করোনাভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি যদি কোনও কারণে হাঁচি বা কাশি দেন, তাহলে তার আশেপাশের বাতাসে ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে অবস্থান করা।

জনসমাগম বেশি আছে, এরকম এলাকা অতি-আবশ্যক প্রয়োজন না হলে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে ।

হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্তকরণ:

নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরী’র মাধ্যমে আপনি কোভিড-১৯ জীবাণু’র সংক্রমন থেকে রক্ষা পেতে পারেন। হাত ধোয়ার পর সেই হাত দিয়েই আবার ট্যাপ বন্ধ করবেন না ।

  • অন্য কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বস্তু যা হাত দিয়ে ঘনঘন স্পর্শ করা হয়, যেমন মোবাইল ফোন (মুঠোফোন), ল্যাপটপ, ইত্যাদি নিজ হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না।
  • রেস্তোরাঁ বা অন্য যেকোনও খাবার বিক্রয়কারী দোকানের থালা-বাসন-বাটি-পাত্র বা বোতল-গেলাস হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না।
  • ঘরের বাইরে রাস্তায় বা অন্যত্র কারও সাথে করমর্দন করা (হাত মেলানো) বা কোলাকুলি করা বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে না আসা।
  • নাক ঝাড়ার পরে, কাশি বা হাঁচি দেবার পরে হাত ধোবেন।
  • যেকোনও জনসমাগমস্থল যার মধ্যে গণপরিবহন, বাজার কিংবা উপাসনাকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত, সেগুলিতে পরিদর্শন করার পরেই হাত ধোবেন।
  • বাসা থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাবার পর হাত ধোবেন।
  • যেকোনও রোগীর সেবা করার আগে, সেবা করার সময়ে বা তার পরে হাত ধোবেন।
  • পোষা প্রাণী বা অন্য যে কোনও প্রাণীকে স্পর্শ করার পরে হাত ধোবেন।
  • পরিবেশ পরিষ্কার করে করোনাভাইরাস মুক্তকরণ:
    • দরজার হাতল, কম্পিউটারের কিবোর্ড ও মনিটরের পর্দা, ল্যাপটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বা অন্য কোনও বহুল ব্যবহৃত আসবাব, ইত্যাদি নিয়মিতভাবে কিছু সময় পরপর জীবাণুনিরোধক স্প্রে বা দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
    • পরিচিত কারও করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা গেলে সাথে সাথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টাইন) রাখা।

‘করোনা ভাইরাস’  আতংক মোকাবেলায় -কিছু কথা-

‘মনের শক্তি’ যেকোন সমস্যা মোকাবেলার জন্য কার্যকরী হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। এর উৎস হচ্ছে ‘চিন্তা ধারা’। আমাদের সমাজে চার শ্রেনীর চিন্তা ধারার মানুষ রয়েছে,-

১।Negative Thinker-যে কোন বিষয় নেতিবাচক দৃস্টিতে দেখে,জীবনকে অর্থহীন মনে করে।

২।Passive Thinker-এ ধরনের ব্যাক্তির চিন্তাধারা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

৩।Positive Thinker- যে কোন বিষয় ইতিবাচকভাবে দেখে কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারে না, নিজের চিন্তার উপর নিয়ন্ত্রন থাকে না।

৪।Power Thinker– চিন্তার রিমোট কন্ট্রোলটা নিজের হাতেই থাকে,চিন্তাকে নিয়ন্ত্রন করে এবং বাস্তবে পরিনত করে সফলতা আনতে পারে।

‘করোনা’ আতংক বা দুশ্চিন্তা থেকে মূক্তির উপায় হলো—‘মানসিক শক্তি’ ।

  • বৈশ্বিক মহামারি প্রভাব ফেলে মানুষের মনোজগতের ওপর। এ সময় রোগ সংক্রমণ আর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় থেকে মৃত্যুভীতি, উৎকণ্ঠিত হওয়া, অনিশ্চয়তা, হঠাৎ রেগে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। মনের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ বা স্ট্রেস।
    স্ট্রেস বা বাড়তি মানসিক চাপ, আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়, আবার চাপের সময় আমাদের যৌক্তিক চিন্তা বিকল হয়ে পড়ায় সামষ্টিকভাবে করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
    এই সময় যেসব কারণে মানসিক চাপ বেড়ে যায় তা হচ্ছে :
  •  যে কোনো সময় করোনা সংক্রমণ হতে পারে এই ভয় ও মৃত্যুভয়।
  •   ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, জীবিকা হারানোর ভয়, অর্থনৈতিক সংকট।
  •  দৈনন্দিন রুটিন পাল্টে যাওয়ার কারণে অনেক কাজ জমা হয়ে যায়। এটা একটা চাপ।
  •   লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনের সময় একাকিত্ব।

মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের লক্ষণ :
* ঘুমের সমস্যা- ঘুম না আসা, মধ্যরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
* ভুলে যাওয়া, কোনো কিছুতে মনোসংযোগ করতে না পারা।
* মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া- তুচ্ছ কারণে রেগে যাওয়া।
* বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, হাত-পা জ্বালা করা।  ঘাম হওয়া।
* খিদে কমে যাওয়া।  অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা।
* অস্থির লাগা, কোথাও শান্ত হয়ে বসতে না পারা, ক্রমাগত পায়চারি করা।

***করোনা সংক্রমনেরমানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমানোর পদক্ষেপ—

  • Power Thinker হতে হবে। পৃথিবীর ৭ ভাইরাস সর্ম্পকে জ্ঞান অর্জনের পর নিজের চিন্তাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। বিভিন্ন ভাইরাস থেকে সকল রোগের সৃস্টি এই বিশ্বাসটুকু মস্তিস্কে ধারন করেল মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে , এতে আপনি প্রতিদিনের কাজকর্ম ভালোভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন। আর হঠাৎ কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও আপনি ভড়কে যাবেন না।
  • Mental Mapping মনোবিদদের মতে,  দৈনন্দিন একটি রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী জীবনযাপন করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রুটিন মেনে চলুন। সবচেয়ে ভালো উপায়, আপনার প্রতিদিনের লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী কর্মপন্থার ওপর একটি ইতিবাচক নোট নিবন্ধ করে দিন শুরু করুন। যখন আপনি আপনার তালিকাবদ্ধ প্রতিটি কাজ শেষ করবেন তখন আপনি সফল এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বোধ করবেন। যারা নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করে জীবনযাপন করেন তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকে।
  • Regular Physical  Exercise-(নিয়মিত ব্যায়াম) মানসিক চাপ শিথিল করতে ব্যায়ামের জুড়ি নেই। ব্যায়াম করলে স্নায়ু সচল হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় এবং হতাশা কমে যায়। নতুন কাজের প্রতি উদ্যোম বাড়ে। তাই দুশ্চিন্তায় ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে ব্যায়াম করুন। গবেষকদের মতে, শারীরিক ব্যায়াম আমাদের মস্তিষ্কে অ্যান্ডোরফিন নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা আমাদের ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এই হরমোনের উৎপাদন আপনাকে রাখবে বিষণ্নতা মুক্ত। যদি ব্যায়াম করতে না পারেন তবে হেঁটে আসুন খানিকক্ষণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট আপনার হার্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যায়াম করুন। বোনাস হিসেবে আপনি কর্মব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের মানসিক ছুটি পাবেন।
  • Daily Meditation-(মেডিটেশন)  মেডিটেশন দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্ত চলাচলে উন্নতি সাধন করা, হৃদপিণ্ডকে সচল রাখা, শ্বাসযন্ত্রের ধীরস্থির ক্রিয়া বজায় রাখার মত কাজে সহায়তা করে। মেডিটেশন দুশ্চিন্তা-ডিপ্রেশন বা হতাশাকে বিদায় করে, দেহের জন্য কল্যাণকর অনুভূতি বয়ে আনে, মনকে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগমুক্ত করে, মনকে প্রফুল্ল করে। অনিদ্রা, মাইগ্রেন, ডায়াবেটিসের মত রোগ থেকে মানবদেহকে অনেকাংশে আরোগ্য করে থাকে মেডিটেশন।
  • Breathing Exercise-(শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম) প্রাচীনকালে যোগসাধনার ক্ষেত্রে এহেন শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত ব্যায়ামের অনুশীলন নিয়মিত করা হত। এর সাহায্যে মানুষ তার শরীর এবং মনের নানা সমস্যা কাটিয়ে সুস্থ সবল হয়ে বাঁচতে পারে। এই ব্যায়াম অনুশীলনের পর্যায়গুলি হল—
  • এমন শান্ত জায়গা বাছতে হবে যেখানে হই-হট্টগোল নেই। হাত পেটের উপরে রেখে কাঁধ এবং বুকের অংশ শিথিল করে রাখতে হবে। নাক দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস নিতে হবে এবং পেট উপরের দিকে ওঠা পর্যন্ত শ্বাস টেনে রাখতে হবে। এই অবস্থায় ৫ গুনতে হবে।
  • এরপর কিছুক্ষণ থেমে আবার ৫ গুনে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া চালাতে হবে।

এইভাবে ৩ থেকে ৫ মিনিট ক্রমাগত দশ বার এই ব্যায়াম অনুশীলন করা  জরুরি। অনুশীলনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে মানুষের নিশ্বাস ছাড়ার গতি শ্বাস নেওয়ার গতির থেকে সামান্য বেড়ে যায়। এহেন অভ্যাস নিয়মিত বজায় রাখার মধ্য দিয়ে মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে ওঠে, চিন্তাভাবনায় স্বচ্ছতা আসে এবং সামগ্রিকভাবে শরীর সুস্থ থাকে।

  • Relaxation Exercise-(শিথিলায়ন ব্যায়াম) ‘

‘সুস্থ্য দেহ, সুন্দর মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন।’ এমন জীবন আমাদের সবারই কাম্য। এক্ষেত্রে একজন মানুষ নিয়মিত শিথিলায়ন ব্যায়াম করলে জীবনে বা চেতনাজগতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন—

  • মন শান্ত ও শিথিল করে।
  • ফোকাস করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • কম চিন্তা মাথায় আসে। রাগ নিয়ন্ত্রন করা যায়।
  • আসক্তি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

 শিথিলায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিককে প্রশান্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতনভাবে দেহ-মনে সুখানুভূতি তৈরি এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে।

  • Self- Soothe-(আত্বোপ্রবোধ নিজেকে সান্ত্বনা দেয়া ।)- পজিটিভ থিংকিং এর বই পড়া,  মুভি  দেখা, গান শোনা,  প্রতিদিনের কিছু কার্যক্রম এইসময় বেশ উপকারে আসে। যেমন:

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দের গান শুনতে পারেন। প্রিয় শিল্পীর গান এইসময় ভালো লাগবে। এতে একঘেয়েমি দূর হয়।

জগতের সেরা বন্ধু হলো বই। ভালো বই ‘মনের খাদ্যদাতা’। বই পড়লে উৎসাহ বাড়ে, মানসিক শক্তি ফিরে আসে। প্রতিদিন অন্তত অল্প সময়ের জন্য হলেও বই পড়া দরকার।

  • Encouragement(সাহসিকতা)-নিজেই নিজেকে সাহস দেয়া এই বলে-এই কষ্টের সময়গুলো সাময়িক এই  আতংক বা দুশ্চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার সকল যোগ্যতা আমার আছে,–এই কথা বার বার বলুন।
  • Radical acceptance-(বাস্তবতা মেনে নেয়া)-জীবন মানেই সমস্যা আছে, থাকবে, মোকাবেলা করে এগিয়ে যেয়ে হবে। জীবনের সব কিছু সব সময় আমাদের মনের মত হবে না—এটাই বাস্তবতা, তাই জীবনের দুঃখ ও সমস্যাকে মেনে নিতে পারলে ভবিষ্যতের পথ মসৃন হয় , দুশিন্তা ও হতাশা সৃস্টি হয় না।
  • Autosuggestion(অটোসাজেশন)
    মনে মনে ইতিবাচক শব্দের বার বার উচ্চারণ বা অনুরণনই হচ্ছে অটোসাজেশন। অটোসাজেশনে ছোট ছোট কথা শব্দ বার বার উচ্চারিত হয়ে সৃষ্টি হয় বিশ্বাস ও শক্তির এক অনন্ত-অনুরণন, যা বদলে দেয় সবকিছু, তৈরি করে নতুন বাস্তবতা। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা হাজার হাজার গবেষণা করে দেখেছেন, মানুষের নার্ভাস সিস্টেম বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে কোন তফাৎ করতে পারে না। বাস্তব ঘটনা দেখলে যে ব্রেনওয়েভ সৃষ্টি হয়, সেই একই ঘটনা কল্পনা করলেও একই ব্রেনওয়েভ সৃষ্টি হয়। তাই করোনা ভাইরাস এর দুশিন্তা থেকে মুক্তির  জন্য মনে মনে ইতিবাচক শব্দের বার বার উচ্চারণ  করতে হবে।
  • Activities(কাজকর্ম)—নিজেকে ব্যক্তিজীবনের গঠন মুলক ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। এতে মন ও মস্তিস্ক উভয়ই সক্রিয় ও সতেজ থাকবে।
  • Stay away from negative influence(-নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থাকুন)- ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন । নিজেকে ইতিবাচক রাখুন। নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা মানুষকে মানসিকভাবে হতাশ করে। পজিটিভ চিন্তা মানুষকে সুখের কাতারে বসায়। জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা জয় করার একটাই মূলমন্ত্র ‘ইতিবাচক ভাবনা’।
  •  Make Family Bonding (পারিবারিক বন্ধন মজবুত করুন)

ব্যস্ততা আজ অনেককেই অবসর দেয় না, যার ফলে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে পরিবার। কিন্তু শিশুদের সাবলীলভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে একটি সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরী। করোনা ভাইরাস এর  অবদান হোমকোয়ারেন্টাইন এর ফলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত হবে।

পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর মহামন্ত্র হলো সবাই একসঙ্গে করে মজা পাওয়া যায় এমন কোনো কাজ খুঁজে বের করা। যেমন:

# শরীরচর্চাকে একটি পারিবারিক আয়োজনে পরিণত করা। পরিবারের সবাই মিলে যে কোনো ধরনের ব্যায়াম করুন। এতে করে সন্তানদের সঙ্গে কেবল যে সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন তা নয়, তাদের মধ্যে শরীরচর্চার সু-অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

বাড়ির ভেতরেই তৈরি করুন নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরুনোর খেলা। দৌড়ানো, লাফানো বা কোনো কিছু ধরে ঝোলা – এমন সব খেলায় বাচ্চাদের সঙ্গে যেমন সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন, সেই সঙ্গে আপনার শরীরচর্চাও হয়ে যাবে।

# রাতের খাবারটা সব সময় পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে খাবারের আয়োজনেও সবাই অংশ নিন। আপনি যখন খাবার তৈরি করছেন তখন বাচ্চাদের বলুন গ্লাস, প্লেট সাজিয়ে দিতে। মাঝে মাঝে খাবার তৈরিতেও তাদের অন্তভূর্ক্ত করুন।

  • Start caring for yourself (নিজের যত্ন)

করোনা সংক্রমণ এখন বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে। দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, লকডাউন, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, প্রতিষেধক আবিস্কার- এসব নিয়ে ব্যস্ত বিশ্ববাসী। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারিতে মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভুললে চলবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুত্ব দিতে বলেছেন। যেমন—

  • সময়মতো খাওয়া আর বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন।
  •  পরিমিত পরিমাণে ঘুমান। নিয়ম মেনে ঘুমান।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুণগত সময় কাটান।
  • বাড়িতেই যার যার ধর্মচর্চা করুন।
  • সবসময় করোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না। অন্যান্য বিষয়েও মনোযোগী হন।
  • যারা ছাত্রছাত্রী, তারা অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করার সুযোগ থাকলে সেটার যথাযথ সদ্ব্যবহার করুন।
  • ধূমপান, মদ্যপান বা অন্য কোনো নেশা গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

& মাদকাসক্তদের ব্যপারে কিছু পরামর্শ—-

১। প্রথমেই প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা। প্রতি দুই সপ্তাহ পর URINE পরীক্ষা করা মাদকমুক্ত আছে কিনা ।

২। মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে ব্যক্তির নিজেকে মুক্ত করার প্রবল ইচ্ছা শক্তি(Strong Motivation) থাকতে হবে।

৩।‘এখনি আনন্দ পেতে হবে’-এ ধারনা থেকে নিজেকে নিবৃত(Deter

Gratification)রাখতে হবে।

৪।সুন্দর  সুস্থ আবেগীয় সর্ম্পক ( Healthy Emotional Relationship) তৈরী করতে হবে।

৫। যারা হোমকোয়ারেন্টাইনে আছে তাদের মাদকাসক্তের চিকিৎসায় Adherence to Treatment  এবং পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরী।

৬। মাদকাসক্ত প্রতিষ্টানগুলোতে শরীরচর্চা,শিথিলায়ন,মেডিটেশন, অটোসাজেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকতে হবে,  নতুবা বার বার রিল্যাপ্স হবে। মাদকাসক্ত একটা Chronic Relapsing Brain Disorder.সাধারনভাবে বলা যায় পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশী  মাদকাসক্ত ব্যাক্তি একাধিকবার রিল্যাপ্স করে। মাদক মস্তিস্কের Reward Center -এ ডোপামিন নিঃস্বরন বাড়িয়ে দেয় ,ফলে মাদকাসক্ত ব্যাক্তি অত্যন্ত উৎফুল্লবোধ করে এবং বার বার ড্রাগ নেয়ার প্রবনতা বেরে যায়। কিন্তু উল্লেখিত ব্যায়ামের  নিয়মিত চর্চা থাকলে  ডোপামিন,সেরোটোনিন ও নরেপিনেফ্রিন এর নিঃস্বরন বাড়িয়ে দেয় এতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি উৎফুল্ল হয় ড্রাগ নেয়ার প্রবনতা কমে আসে চিত্রের  Balanced Mood  অর্জন করে—

পরিশেষ—- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা সংক্রমণের এ পর্যায়ে ভয় পাওয়া, উৎকণ্ঠিত হওয়াই স্বাভাবিক, তবে তা সংক্রমণ প্রতিরোধে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা করোনা প্রতিরোধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা- চিকিৎসক, নার্স, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং মিডিয়াকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নীতিনির্ধারক তাদের মধ্যে মানসিক চাপ বেশি। আবার যারা বাড়িতে বা হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে রয়েছেন, তাদের মধ্যেও মানসিক চাপ বেশি।  উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলোর মাধ্যমে মানসিক শক্তি অর্জন করা সম্ভব এবং একমাত্র  এই মানসিক শক্তিই(Mental Strength) পারবে ব্যাক্তির  করোনা আতংক বা দুশ্চিন্তা দূর করে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে।

তথ্যসূত্র

Campbell C (২০ জানুয়ারি ২০২০)। “The Wuhan Pneumonia Crisis Highlights the Danger in China’s Opaque Way of Doing Things”। Time। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০।

  1. Lucey D, Sparrow A (১৪ জানুয়ারি ২০২০)। “China Deserves Some Credit for Its Handling of the Wuhan Pneumonia”। Foreign Policy। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০।
  2. Stobbe M (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। “Wuhan coronavirus? 2018 nCoV? Naming a new disease”। Fortune। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০।
  3. “Coronavirus Disease 2019 (COVID-19) Symptoms”। Centers for Disease Control and Prevention। United States। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।
  4. “World Health Organization. (‎2020)‎. Coronavirus disease 2019 (‎‎COVID-19)‎‎: situation report, 46”(PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০।
  5. “Naming the coronavirus disease (COVID-19) and the virus that causes it”। World Health Organization (WHO)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  6. ↑ ঝাঁপ দাও:  Hui DS, I Azhar E, Madani TA, Ntoumi F, Kock R, Dar O, ও অন্যান্য (ফেব্রুয়ারি ২০২০)। “The continuing 2019-nCoV epidemic threat of novel coronaviruses to global health – The latest 2019 novel coronavirus outbreak in Wuhan, China”। Int J Infect Dis। 91: 264–66। doi:1016/j.ijid.2020.01.009 । PMID 31953166
  7. ↑ ঝাঁপ দাও: “WHO Director-General’s opening remarks at the media briefing on COVID-19”। World Health Organization (WHO) (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। ১১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২০।
  8. “Q&A on coronaviruses (COVID-19)”। World Health Organization (WHO)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২০।
  9. Wang V (৫ মার্চ ২০২০)। “Most Coronavirus Cases Are Mild. That’s Good and Bad News.”। The New York Times
  10. ↑ ঝাঁপ দাও: “Q&A on coronaviruses”। World Health Organization (WHO)। ২০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২০।
  11. “Wuhan Coronavirus Death Rate”।worldometers.info। ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০।

 “Report 4: Severity of 2019-novel coronavirus (nCoV)” (PDF)। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০।

লেখক: নাসিমা বেগম ঝুনু, এম.এস.এস (ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক, ডি. ইউ), পিজিটি ইন সাইকো থেরাপি (সি.এম.এম.এম ইউ), সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর স্বদেশ হাসপাতাল ও দীপ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র, ময়মনসিংহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *