জনমনে কয়েকটি প্রশ্ন

আরিফ সিদ্দিকী সুমনঃ
১। নভোচারীরা মহাকাশ ভ্রমণের সময় চিন্তা করে আবার দেখা হতেও পারে নাও পারে।
২।একজন পাইলট বিমান উড্ডয়নের সময় একই রকম ভাবে।
৩। আর্মী, সীমান্ত রক্ষী,পুলিশ সকলেরই সুরক্ষা থাকা সত্তে¡ও প্রতিনিয়ত লাশ হয়ে ঘরে ফেরার চিন্তা থেকেই যায়।
৪। ইঞ্জিনিয়ারও এক্সিডেন্টের ভয় নিয়েই কাজ করে।
৫। শিক্ষকরা অবাধ্য ছাত্রদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয় নিয়েই নিরলস কাজ করে যান।
৬। মসজিদের ইমাম সাহেবদের মহল্লার মুরব্বিদের রাজনৈতিক নিপিড়ন নিয়েই থাকতে হয়।
৭। তাবত ব্যবসায়িকের লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়ে।
৮। সকল চাকুরীজিবীদের জীবনে ঝুঁকি থাকে।
৯। নায়ক নায়িকাদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়ে।
১০। রাজনৈতিক নেতাদের ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়া নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডাক্তার সাহেবদের ঝুঁকিহীন কর্মক্ষেত্র বিনির্মান কি এই মর্ত্যলোকে সম্ভব?
নাকি তাহারা স্বর্গলোকে গমনেচ্ছু?? নাকি করোনার অন্তরালে রয়েছে অন্য কোন রাজনৈতিক ধারনা??
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব কিছুই জানেন এবং বুঝেন। উনি শিষ্টের পালন পাশাপাশি দুষ্টের দমন করতে অভ্যস্থ। তাহলে এক নজর দেখে নেওয়া যাক এইসব চিকিৎসকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মনোভাব-
কোন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী যদি করোনার এই সময়ে রোগীদের যথাযথ সেবা না দেয় তবে তারা ভবিষ্যতে ডাক্তারি করতে পারবে কিনা তা নিয়ে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত মঙ্গলবার সকালে গণভবনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাসমূহের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি একথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা এই সময়টা পর্যবেক্ষণ করবো কারা কারা রোগীদের সেবা দিচ্ছে। যেসব চিকিৎসক-নার্সরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে তাদের আমরা পুরষ্কৃত করবো।
আর যারা এই সময়ে চিকিৎসা দেয়া থেকে বিরত থাকবে তাদের ভবিষ্যতে এই পেশায় থাকা নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ডাক্তার প্রয়োজন তবে দরকার হলে বাহির থেকে ডাক্তার-নার্স আনা হবে। যাদের মধ্যে এই নুন্যতম মানবতাবোধটুকু নেই তাদের আমাদের প্রয়োজন নেই।
এসময়,করোনায় চিকিৎসা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *