দেশে একদিনে সর্বাধিক করোনা পরীক্ষা ও শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ

করোনা ডেস্কঃ গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৯৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৪১ জনের। পরীক্ষা এবং শনাক্ত উভয় ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক। অপরদিকে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ছাড়িয়েছে।

দেশে একদিনে সর্বাধিক করোনা পরীক্ষা শনাক্ত

Dip Add

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৯৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৪১ জনের। পরীক্ষা এবং শনাক্ত উভয় ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটায় মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিগত কয়েকদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৫৪৯ জন।

এর আগের দিন, গত সোমবার জানানো হয়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৮১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৪৯৭ জন।

তার আগের দিন, গত রোববার জানানো হয় ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ গত চারদিনের সরকারি পরিসংখ্যান আমলে নিলে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষা যত বেশি হচ্ছে রোগী শনাক্তও তত বাড়ছে।

সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১ জনকে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ১০৩ জনের।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর গত ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দিন দিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ছাড়ালো : মৃত্যু সংখ্যা লাখ ১৭ হাজারের বেশি

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্তি বিশ্ব। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার সেই সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিনে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৬৫ জনের।

একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩১ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার।

বুধবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৯৭২ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫১ জন। অপরদিকে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৯ হাজার ২৬৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৮ জন।

আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ৮২২ জনের।

মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫০৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩৫৯ জনের।

চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত তিন মাসে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। অধিকাংশ দেশেই মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে মানুষের চলাফেরার ওপর বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো দেশে আরোপ করা হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউন, কোথাও কোথাও আংশিকভাবে চলছে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাত্রায় নিষেধাজ্ঞার ওপর পড়েছেন।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *