ময়মনসিংহে বাসা থেকে বের করে দেয়া সেই নারী চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত নন

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহে দ্বিতীয় ধাপের নমুনা পরীক্ষায় শহরের চরপাড়া এলাকার নয়াপাড়ার সেই নারী চিকিৎসকের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি মিলেনি। একদিনের ব্যবধানে কোভিড-১৯ এর রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ হয়ে যাওয়ায় দেশ জুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। তবে চিকিৎসকরা এ ঘটনাকে সৃষ্টিকর্তার দয়ায় এমনটা হয়েছে বলেই মেনে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিএমএ ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহাম্মদ গোলন্দাজ জানিয়েছেন, একবার করোনায় শনাক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসাটা কঠিন। তারপরও সবার দোয়ায় তিনি (চিকিৎসক) সুস্থ হয়ে গেলেন, এটা নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের।

এদিকে গত শনিবার ওই নারী চিকিৎসকের প্রথম নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মঙ্গলবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইডিসিআর) থেকে পাঠানো রিপোর্টে ওই নারীর দেহে করোনা পজেটিভ আসে। এতে করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন চড়পাড়ার নয়াপাড়া এলাকাটি লকডাউন করে। লকডাউনের আগেই এই চিকিৎসক দম্পত্তিকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তার দলবল নিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন। এমন দুর্ব্যবহার পেয়ে ওই দম্পত্তি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। অবশেষে বুধবার তার সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে ওই নারী ডাক্তার একটি স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিচার আওতায় এনে ডাক্তার সমাজকে নির্বিঘ্নে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার একটি অনন্য বিচার চান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। অবশেষে দ্বিতীয়বার ওই নারী ডাক্তারের নমুনা পরীক্ষায় বুধবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

Dip Add

ওই নারী চিকিৎসক জানান, নমুনা সংগ্রহের সময় যে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরেছিলেন সেটি মানসম্মত ছিল না। এছাড়াও গত ৭ এপ্রিল বিজয়নগর উপজেলার হরষপুরে এক রোগীর নমুনা সংগ্রহে গিয়েছিলেন তিনিসহ আরো চারজন। ওই রোগীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। ওই রোগীকে প্রথমে ডিল করেন ওই নারী ডাক্তার। ওই রোগীর রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর তিনিসহ চারজন নিজ থেকেই নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠান। যদিও তাদের মধ্যে কারও করোনাভাইরাসের লক্ষণ ছিল না। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) তাদের নমুনা পাঠানোর পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তাদের রিপোর্ট আসে। ওই নারী ডাক্তারের রিপোর্ট পজেটিভ এবং বাকি তিনজনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তিনি আরও বলেন, “নমুনা সংগ্রহ করার জন্য আমাদের মানসম্মত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছিল না। এন-৯৫ মাস্কের পরিবর্তে আমরা সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক, সাধারণ পিপিই, গ্লাভস ও বড় গগলসের পরিবর্তে প্লাস্টিকের গ্লাস পরেছিলাম। আমাদের পিপিই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ছিল না। সরকারিভাবে আমাদের এসব দেয়া হয়নি। এগুলো ছাড়াই আমরা কাজ করেছি। তবে আমি সুস্থ আছি। তবে আমাকে এখন পর্যন্ত সুস্হ ঘোষণা করা হয় নাই। আরো একবার পরীক্ষা করা হবে।”

তবে এব্যাপারে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, COVID-19 এর জন্য যে টেস্ট করা হয় তা হল rt-PCR। তা পজেটিভ হবার জন্য দরকার একটি নির্দিষ্ট পরিমান ভাইরাল লোড। নির্দিষ্ট পরিমান ভাইরাল লোড না হলে টেস্ট নেগেটিভ আসে। তাই যদি কোন রোগীর লক্ষন COVID-19 এর মত হয় তবে গাইডলাইন এ আছে প্রথমবার যদি ওই রোগীর টেস্ট নেগেটিভও হয় ( ভাইরাল লোড কম থাকার কারনে), তবে আবার রিচেক করা। তবে টেস্ট করার ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ত্রুটিও থাকতে পারে। এছাড়াও পিসিআরএ ০-৭ দিনে পজিটিভ আসবে, যদি শরীরে যথেস্ট পরিমানে ভাইরাস থাকে, অল্প থাকলেও আসবেনা, আবার ৭ম-২১তম দিনে রক্ত ছাড়া কিছুতে আসবেনা(এন্টিবডি টেস্ট) সুপার টেকনিক্যাল এই বিষয়গুলোর গভীরে না গিয়ে মন্তব্য জটিলতা বাড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *