সেরা দল সাজালেন কোহলি-ডি ভিলিয়ার্স

ক্রীড়া ডেস্কঃ খেলার মাঠে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু দুই দল থেকে যদি সেরা দল খুঁজে নিতে হয়, তাহলে সে দল কেমন হবে? অনলাইনে ভিডিও চ্যাটে দুই দেশের দুই তারকা বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স সেই কাজটাই করলেন। দুজন মিলে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা দল সাজালেন।

কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের একাদশে জায়গা পেয়েছেন শচীন-জ্যাক ক্যালিসরা। আবার সুযোগ পেয়েছেন এ যুগের ক্রিকেট তারকারাও। এর মধ্যে নিজের পছন্দের জায়গা তিন নম্বরেই আছেন কোহলি। অন্যদিকে, চারে জায়গা করে নিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স।

Dip Add

সব মিলিয়ে ১৪ জনের দল সাজিয়েছেন এবি ও কোহলি। কিন্তু প্রথম একাদশে জাদেজা, মর্কেল ও কুলদীপকে রাখেননি তাঁরা। প্রথম একাদশে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে থাকছেন শুধু চাহাল। দেখে নেওয়া যাক সেই সেরা দল :

শচীন  টেন্ডুলকার : কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের দলে ওপেনার শচীন। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন তাঁকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে নামতে বলেছিলেন। আজাহারের সেই সিদ্ধান্ত দারুণভাবে খেটে কাজে লেগেছিল। পরবর্তীকালে ৫০ ওভারের ম্যাচে ওপেন করতে নেমে  দারুণ সফল হয়েছিলেন শচীন। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই কোহলি ও এবি ডি ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানকে ওপেনার হিসেবে রেখেছেন দলে।

রোহিত শর্মা : ওপেনিংয়ে শচীনের সঙ্গী রোহিত শর্মা। সম্প্রতি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি। বড় ইনিংস খেলতে দক্ষ ‘হিটম্যান’। তাই এ একাদশে শচীনের যোগ্য সতীর্থ হিসেবে তাঁকেই বেছে নিলেন কোহলি-এবি।

বিরাট কোহলি : তিন নম্বরে থাকছেন কোহলি নিজে। তিনে নেমে ইনিংস গড়ার কাজটা দারুণ করতে পারেন তিনি। এই পজিশনে দীর্ঘদিন খেলা কোহলি রানের গতি যেমন বাড়াতে পারেন, তেমনই স্ট্রাইক রোটেট করে স্কোর বোর্ড সচল রাখতে দারুণ দক্ষ।

এবি ডি ভিলিয়ার্স : বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। মাঠের যেকোনো প্রান্তে শট খেলতে পারেন। স্লগ ওভারে এবি ঝড় তোলেন। বোলাররা বুঝে উঠতে পারেন না মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রিকে কোন লেংথে বল করবেন। তাই তো চার নম্বর জায়গাটা নিজেই বেছে নিলেন।

জ্যাক ক্যালিস : সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। যেকোনো মুহূর্তে বড় ইনিংস গড়তে পারেন। বল হাতেও প্রয়োজনের সময়ে উইকেট তুলে নিতে পারেন ক্যালিস। এ রকম একজন অলরাউন্ডারকে যেকোনো দলই পেতে চাইবে। সে কারণেই কোহলি ও এবি নিয়েছেন ক্যালিসকে।

যুবরাজ : বাঁহাতি যুবরাজ কী করতে পারেন, তা খুব ভালো জানেন ক্রিকেটভক্তরা। নাইরোবিতে অভিষেক ম্যাচেই নজর কেড়েছিলেন। তার পরে যত এগিয়েছেন, ততই নিজেকে শানিত করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ যুবরাজ সিংকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও সফল হয়েছিলেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনি : ধোনিকে বাছাই করতে কোহলির যুক্তি ছিল, এমএস এলে দলে ভারসাম্য বাড়বে। আর এবি তো ক্যাপ্টেনই বানিয়েছেন ধোনিকে। ফিনিশার হিসেবে ধোনির দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে গোটা দলকে পরিচালিত করেন।

কাগিসো রাবাদা : রাবাদার গতি যেকোনো ব্যাটসম্যানের কাছেই ভয়ের কারণ। ডেথ ওভারেও তিনি অবলীলায় ইয়র্কার দিতে পারেন।

ডেল স্টেইন : যেকোনো ফরম্যাটে ভয়ংকর বোলার। অ্যাটাকিং বোলার বলতে যা বোঝানো হয়, স্টেইন ঠিক তাই। বলের সিমকে দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারেন। উইকেটের দুদিকেই সুইং করাতে পারেন। এ রকম একজন বোলার অধিনায়কের হাতের তুরুপের তাস।

জসপ্রিত বুমরাহ : শর্ট রান আপেও যে গতির ঝড় তোলা যায়, তা বুমরাহকে না দেখলে বোঝাই যেত না। বলে বলে ইয়র্কার দিতে পারেন স্লগ ওভারে। বলের বৈচিত্র্য এতটাই রয়েছে যে ব্যাটসম্যন তাঁকে সামলাতে বেগ পান। কোহালির খুব পছন্দের বোলার বুমরাহ। দুই তারকার দলে বুমরাহ তাই অটোমেটিক চয়েস।

চাহাল : চাহাল রান আটকে রাখতে পারেন। সেইসঙ্গে তিনি উইকেট তুলতেও দক্ষ। এ রকম একজন বোলারকে দলে চাইবেন যেকোনো অধিনায়কই। সে কারণেই কোহলি ও এবি দলে নিয়েছেন চাহালকে।

কুলদীপ যাদব : শুরুর দিকে কুলদীপের স্পিন সামলাতে পারতেন না ব্যাটসম্যানরা। তাঁকে খেলতে সমস্যা হতো ব্যাটসম্যানদের। উইকেটও পেতেন কুলদীপ।

রবীন্দ্র জাদেজা : যেকোনো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার। বল করতে পারেন। দুরন্ত ফিল্ডার। ব্যাটিংয়ের হাতও বেশ ভালো। জাদেজাকে স্কোয়াডে রেখেছেন কোহলি ও এবি।

মর্নি মর্কেল : ডেল স্টেইনের সঙ্গে মর্কেলের জুটি ভয়ংকর। এ ছাড়া ব্যাট হাতে দলের কাজে আসতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *