ইতালিতে করোনায় মৃত্যু ৩০ হাজার পার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা মহামারীতে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ২৪৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রাণহানি পৌঁছেছে ৩০ হাজার ২০১ জনে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষে পৌঁছল ইতালি। বৈশ্বিক হিসাবে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এবং যুক্তরাজ্য দ্বিতীয়। এরপরই এখন ইতালির অবস্থান। এদিকে লকডাউন ব্যবস্থা শিথিলের কারণে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ইতালির চিকিৎসকরা। খবর বিবিসি ও এএফপির।

ইতালির স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার ২০১ জন মানুষ। শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১ হাজার ৩২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৮৫ জন।

Dip Add

যুক্তরাজ্যে গত বুধবার মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্পেন ২৬ হাজারের বেশি মৃত্যু নিয়ে ইউরোপে তৃতীয় অবস্থানে আছে।

ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর ইতালিই প্রথম লকডাউন জারি করেছিল। এখন দেশটি লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে। যদিও স্কুল, সিনেমাহল, দোকান, বার রেস্টুরেন্ট এখনো বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং জনমসমাগমেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইতালিতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। শুক্রবার ইতালিতে নতুন ২৪৩ জনের মৃত্যু হলেও এর আগের দিনের চেয়ে তা কম। বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা ছিল ২৭৪। আবার আক্রান্তের দিক দিয়েও বৃস্পতিবারের ১,৪০১ জনের তুলনায় শুক্রবার কম সংখ্যক (১,৩২৭) মানুষ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন থাকা রোগীর সংখ্যাও দিন দিন কমছে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে থাকা রোগীর সংখ্যা বৃহস্পতিবারের ১,৩১১ জন থেকে শুক্রবার কমে হয়েছে ১,১৬৮ জন।

তবে লকডাউন শিথিলের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মিলানের সাসকো হাসপাতালের সংক্রমিত রোগ বিভাগের প্রধান মাসিমো গ্যালি বলেন, এটি পরিষ্কার লকডাউন শিথিল মানে সমস্যা রয়ে যাওয়া। অসংখ্য মানুষ এখনও সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে ইতালির করোনা ভাইরাস কমিশনের প্রধান অ্যাঞ্জেলো বরেলি বলেন, ফের যদি ভাইরাসটির প্রকোপ দেখা দেয়, তবে লকডাউন ব্যবস্থা আবার কঠোর করা হবে। আমরা বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *